ঢাকা | , ১২ মাঘ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

মন্ত্রিত্ব পেলেন বিএনপির গুলশান কার্যালয় বাড়ির মালিক

স্টাফ রিপোর্টার
নিউজ প্রকাশের তারিখ : Feb 25, 2026 ইং
ছবির ক্যাপশন: গৃহায়ণ ও গণপূর্তমন্ত্রী জাকারিয়া তাহের। ছবির ক্যাপশন: গৃহায়ণ ও গণপূর্তমন্ত্রী জাকারিয়া তাহের।

অনলাইন ডেস্ক: বিএনপির গুলশান কার্যালয় দীর্ঘদিন ধরেই দলটির নীতিনির্ধারণের কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত। ২০০৮ সাল থেকে দেশের রাজনৈতিক নানা উত্থান-পতনের সাক্ষী এই বাড়িটি। বহু বছর পুলিশি বেষ্টনীর মধ্যে থাকা এই কার্যালয় ঘিরেই কেটেছে বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার দীর্ঘ রাজনৈতিক সংকটময় সময়। এমনকি একসময় কার্যালয়ের সামনে বালুর ট্রাক দিয়ে অবরুদ্ধ করার ঘটনাও ঘটেছিল।

অনেকের ধারণা, বাড়িটি বিএনপির নিজস্ব সম্পত্তি। তবে বিভিন্ন সূত্রে জানা যায়, গুলশানের এই বাড়িটির মালিক বর্তমান গৃহায়ণ ও গণপূর্তমন্ত্রী জাকারিয়া তাহের। ২০০৮ সালের প্রতিকূল রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে তিনি বাড়িটি দলীয় চেয়ারপারসনের কার্যালয় হিসেবে ব্যবহারের জন্য দেন। আওয়ামী লীগ সরকারের সময় নানা চাপের মুখেও তিনি বাড়িটি থেকে দলীয় কার্যালয় সরিয়ে নেননি। দলীয় মহলে অনেকে মনে করেন, দীর্ঘদিনের এই একনিষ্ঠতার স্বীকৃতি হিসেবেই তিনি নতুন মন্ত্রিসভায় স্থান পেয়েছেন।

কুমিল্লা-৮ আসন থেকে নির্বাচিত জাকারিয়া তাহের এবারের নির্বাচনে উল্লেখযোগ্য ব্যবধানে জয়লাভ করেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী শফিকুল আলম হেলালের তুলনায় প্রায় চারগুণ বেশি ভোট পান তিনি। আসনের সবকটি কেন্দ্রে বিজয়ী হয়ে তিনি একটি দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন।

হলফনামা অনুযায়ী, জাকারিয়া তাহেরের ব্যক্তিগত স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদের পরিমাণ ২৩১ কোটি ৪১ লাখ ৪৬ হাজার ৯৭১ টাকা। তিনি নতুন মন্ত্রিসভার অন্যতম ধনী সদস্য হিসেবেও পরিচিত।

১৯৬৫ সালে কুমিল্লার বরুড়া উপজেলার আদ্রা ইউনিয়নের সোনাইমুড়ী গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন জাকারিয়া তাহের। যুক্তরাষ্ট্র থেকে বিজনেস ম্যানেজমেন্টে বিএসসি সম্পন্ন করেন তিনি। তার বাবা প্রয়াত এ কে এম আবু তাহের কুমিল্লা-৮ আসন থেকে ১৯৯১, ১৯৯৬ ও ২০০১ সালে ধানের শীষ প্রতীকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন। ২০০৪ সালে বাবার মৃত্যুর পর উপনির্বাচনে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়ে রাজনীতিতে সক্রিয় ভূমিকা নেন জাকারিয়া তাহের।

২০০৮ ও ২০১৮ সালের নির্বাচনে পরাজিত হলেও এবারের নির্বাচনে একই আসন থেকে বড় ব্যবধানে জয় পান তিনি। রাজনৈতিক জীবনে তিনি কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা বিএনপির সভাপতির দায়িত্ব পালন করেছেন এবং পরে দলের জাতীয় নির্বাহী কমিটির কর্মসংস্থানবিষয়ক সম্পাদক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন।

তার বাবা এ কে এম আবু তাহের দেশের একজন শিল্পপতি হিসেবে পরিচিত ছিলেন এবং ন্যাশনাল ব্যাংক লিমিটেডের প্রতিষ্ঠাতা ও চেয়ারম্যান ছিলেন। জাকারিয়া তাহেরও ওই ব্যাংকের একজন পরিচালক।

মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পাওয়ায় তার নির্বাচনী এলাকায় আনন্দের পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে। এলাকাবাসীর প্রত্যাশা, বরুড়ার এই সন্তান দায়িত্ব পালনের মাধ্যমে সারাদেশের মানুষের আস্থা অর্জন করবেন।


নিউজটি পোস্ট করেছেন : স্টাফ রিপোর্টার

কমেন্ট বক্স

এ জাতীয় আরো খবর

সর্বশেষ সংবাদ