ঢাকা | , ১২ মাঘ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

নাঙ্গলকোটে রাতের আধাঁরে সরকারী জমির মাটি লুটে নিলেন যুবদল নেতা

স্টাফ রিপোর্টার
নিউজ প্রকাশের তারিখ : Mar 15, 2026 ইং
ছবির ক্যাপশন: মাটি লুটে নেয়ার পর। ছবির ক্যাপশন: মাটি লুটে নেয়ার পর।
রাতের আধাঁরে সরকারী জমির মাটি লুটে নিয়ে বিক্রি করেছেন এক যুবদল নেতা। বৃহস্পতিবার ও শুক্রবার  (১২ ও ১৩ মার্চ) রাতে কুমিল্লার নাঙ্গলকোট উপজেলার জোড্ডা পশ্চিম ইউনিয়নের মান্দ্রা আশিরপাড় গ্রামে সরকারি খাস জমির মাটি লুটের এ ঘটনা ঘটে। অভিযুক্ত ওই নেতার নাম মোঃ মঞ্জুরুল ইমলাম। তিনি জোড্ডা পশ্চিম ইউনিয়নের মান্দ্রা গ্রামের মৃত আবুল কালামের ছেলে ও একই ইউনিয়ন যুবদলের সদস্য ছিলেন।

জানাগেছে, ১৯৮৪ সালে ৯৩ শতক জমি তৎকালীন কুমিল্লা জেলা প্রশাসকের নামে রেজিষ্ট্রি করে দেন ৭নং জোড্ডা ইউনয়নের সাবেক চেয়ারম্যান ও আশিরপাড় গ্রামের মৃত মাষ্টার আবুল হাশেম। দানকৃত জমির মধ্যে ৯৩ শতক জমিতে আশিরপাড় সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় ও এতিমখানা মাদ্রাসা প্রতষ্ঠা করা হয়। বাকী জমি পরিত্যক্ত অবস্থায় রয়েছে। সেই পরিত্যক্ত  জমির মাটি দেড় লক্ষ টাকার বিনিময়ে রাতের আধাঁরে বিক্রি করে দেন যুবদল নেতা মঞ্জুর। 

তবে মোঃ মঞ্জুরুল ইমলাম স্থানীয় যুবদলের নেতা হওয়ায় তার এ ধরনের অবৈধ কর্মকান্ডের বিরুদ্ধে কেউ প্রকাশ্যে কথা বলার সাহস পায়না। তাই তিনি এ মাটি বাণিজ্যের কাজটি প্রশাসনের কোনো ধরনের বাধা ছাড়াই দেদারসে চালিয়ে গেছেন। অভিযোগ আছে তাঁর এ মাটি বাণিজ্যের নেপথ্যে স্থানীয় কয়েক জন বিএনপি নেতাসহ উপজেলা ও ইউনিয়ন যুবদলের প্রভাবশালী নেতাও সম্পৃক্ত রয়েছে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে উপজেলা বিএনপি, যুবদল ও ছাত্রদলের বেশ কয়েকজন নেতা  জানান, মোঃ মঞ্জুরুল ইমলাম জোড্ডা পশ্চিম ইউনিয়নের মান্দ্রা গ্রামের বাসিন্দা। তিনি দলীয় প্রভাব খাটিয়ে সরকারি জমি থেকে অবৈধভাবে ভেকু মেশিন দিয়ে মাটি কেটে বিক্রি করছেন মঞ্জুর। 

একই ইউনিয়নের নিশ্চিস্তপুর গ্রামের বাসিন্দা ও কেন্দ্রীয় বিএনপির সদস্য মোবাশে^র আলম ভূঁইয়া কুমিল্লা- ১০ আসনের সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। এমপি হওয়ার পরই তাঁর ঘোষনা ছিলো তিনি কোন ধরনের অন্যায় অনিয়মের সুযোগ দিবেন না। সাংসদের এমন ঘোষনার পরও তৎপরতা দেখাননি নাঙ্গলকোট উপজেলা প্রশাসন। তাই সরকারী জমির মাটি বিক্রি করতে কোন ধরনের বাঁধার মুখে পড়তে হয়নি মঞ্জুরকে। 

এ বিষয়ে জানতে চাইলে, যুবদল নেতা মোঃ মঞ্জুরুল ইমলাম মুঠোফোনে একাধিক বার ফোন দেয়া হলেও তিনি তা রিসিভ করেননি।
 
এ বিষয়ে সহকারী কমিশনার (ভূমি) মিল্টন চাকমা বলেন, রাতের আধাঁরে মাটি কাটলে আসলে আমাদের তো কিছু করার থাকেনা। তবুও এ ব্যাপারে খোঁজ নিয়ে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা লিজা আক্তার বিথী বলেন, খোঁজ নিয়ে মোঃ মঞ্জুরুল ইমলামের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে।

নিউজটি পোস্ট করেছেন : স্টাফ রিপোর্টার

কমেন্ট বক্স

এ জাতীয় আরো খবর

সর্বশেষ সংবাদ